ধরা যাক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলো। পাকিস্তানে শত্রুকে গুঁড়িয়ে দিলাম আমরা। তারপর কী? কয়েকটা প্রশ্ন করা চলবে?

Can we condemn terror from Pakistan into India, and after supporting a bombing campaign inside Pakistan to destroy terrorist camps, ask some important questions — especially to those who call me anti-India traitor, or at least unpatriotic? Please answer my ten questions.


আমার বন্ধুরাই আমাকে পাকিস্তানী বলছে। দেশদ্রোহী বলছে। বলছে আমি নাকি দেশের এই সংকটে যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে ভারতের শত্রুর মতো আচরণ করছি। আমি নাকি একজন “enemy within” বা ঘরের শত্রু। আমাদের মতো লোকদের আগে শায়েস্তা করা দরকার। 
তাই আমি ভেবে দেখলাম, আমি খুব অন্যায় করছি। এমন তো নয় যে আমি সবজান্তা, আর কেউ কিছু জানেনা। আমিই একমাত্র ইতিহাস পড়েছি, আর কেউ পড়েনি। আমিই একমাত্র খাঁটি দেশপ্রেমিক, আর সবাই ইডিয়েট। তাছাড়া, ভয়ও আছে, কে কোথায় রাস্তায় ধরে ধোলাই দেবে। কী দরকার?

তারপর ধরুন, প্রত্যেকের প্রতিই আমার শ্রদ্ধা আছে। আমি সম্মান দিতে জানি মানুষকে। সুতরাং, যুদ্ধের পক্ষে, পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে বোমা ফেলার বিজেপি সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে আমি সম্পূর্ণ সহমত না হলেও, শুধুমাত্র তাদের দেশপ্রেমকে সম্মান জানানোর জন্যে — ধরা যাক, আমি আমার যুদ্ধবিরোধী অবস্থান আজকের জন্যে পরিবর্তন করলাম। হোক যুদ্ধ, হোক বোমাবর্ষণ। সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দাও। জৈশ আর যারা যারা আছে, উড়িয়ে দাও তাদের সব কটাকে। 

পুলওয়ামার শহীদ সেনাদের জন্যে আমার যে কৃতজ্ঞতা, তা আমি আগেও লিখেছি। তাদের মৃত্যু যেন ব্যর্থ না হয়। রক্তের বদলে রক্ত চাই। ধরা যাক, ভালোই হবে। 

এসব প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেলে, তারপরে আমি কতগুলো প্রশ্ন করতে পারি কি? আশাকরি, আমার ওই বন্ধুরা আমাকে সে সুযোগ দেবে। 

যদি দেয়, তাহলে আমি এই কথাগুলো বলবো। 

ওরা যদি উত্তর না দেয়, আপনারা দিন। বা, আমার থেকে যারা অনেক বেশি জানে, তাদের বলুন উত্তর দিতে। 

হাজার হোক, আমি সামান্য মানুষ। কীই বা জানি এসব বিশাল বিশাল ব্যাপারের?___________________________

প্রশ্ন ১ — ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি জোন, যেখানে মাছি গলেনা, সেখানে সন্ত্রাসীরা ট্রাক বোমা নিয়ে এসে পঁয়তাল্লিশ জন অস্ত্রধারী, ট্রেনিং নেওয়া সৈনিককে উড়িয়ে দিলো কী করে? তার কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি? কে দায়ী এই ভয়াবহ মৃত্যুর জন্যে, এই সৈনিকদের গণহত্যার জন্যে, তার সনাক্তকরণ হবে কি? 

প্রশ্ন ২ — এখনো পর্যন্ত এই বিশাল নিরাপত্তা গাফিলতির জন্যে কোনো জেনারেল, কর্ণেল, মন্ত্রী বা নিরাপত্তা অফিসার পদত্যাগ করেছে কি? কোনো ব্যাংকের ভল্টে  যদি ডাকাতি হয়, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অফিসার বা ব্যাংক ম্যানেজার যার কাছে সিকিউরিটির চাবিকাঠি থাকে, তার চাকরি যায়। কারণ তারা ডাকাতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতার দায়িত্ব কর্পোরেট জগতে নিতেই হয়। আর এখন তো সরকার চলছে কর্পোরেট আমেরিকার মডেলে। তাহলে, এখানে তা হবেনা কেন? 

প্রশ্ন ৩ — শুনেছি, আগেই নাকি খবর এসেছিলো, সন্ত্রাসী হামলা হতে চলেছে। তারপরেও নিরাপত্তায় এতো বড় গর্ত থেকে গেলো কীভাবে? কেউ বা কারা কি ইচ্ছাকৃতভাবে এই সন্ত্রাস যাতে হয়, তা সুনিশ্চিত করেছে? তারা কারা? তাদের খুঁজে বের করা কি এতই অসম্ভব?

প্রশ্ন ৪ — আচ্ছা, ধরা যাক, ভারতের মিলিটারি ও এয়ার ফোর্স পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিলো। যদিও, আন্তর্জাতিক আইন বলেছে, একতরফাভাবে কোনো দেশের সীমারেখার মধ্যে ঢুকে বোমাবর্ষণ করা — কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনা ছাড়াই — সে দেশের সার্বভৌমত্ব (sovereignty) ধ্বংস করে, যা আন্তর্জাতিক আইনবিরুদ্ধ কাজ। যাই হোক, আমেরিকা আমাদের শিখিয়েছে, কীভাবে সারা পৃথিবীর বিরোধিতার তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে যুদ্ধ, বোমাবর্ষণ ও গণহত্যা করা যায়। ইরাক, ভিয়েতনাম, এখন সিরিয়া। সুতরাং, নিশ্চয়ই করা যায়। ধরে নিলাম। তাহলে, মোদী ও তাঁরা সরকার আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি? তারা কি গ্যারান্টি দেবে, আর কখনো এ ধরণের সন্ত্রাসী হামলা হবেনা?

প্রশ্ন ৫ — গ্যারান্টি ছাড়া একটা গাড়িও যখন আমরা কিনিনা, এমনকি একটা সেলাই মেশিন, তাহলে গ্যারান্টি ছাড়া আমরা যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণ ও তার পিছনে যে বিশাল অংকের অর্থব্যয়, তা কিনবো কী করে? এই কর্পোরেট সিস্টেমে নির্বাচন তো এখন বৃহত্তম মল, সুপারমার্কেট। 

প্রশ্ন ৬ — এই যুদ্ধের পরে কি কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান খুঁজে বের করা হবে? আমেরিকা ও সৌদি আরব জাতীয় দেশগুলো — যারা পাকিস্তানকে চিরকাল অস্ত্র ও অর্থসাহায্য করে এসেছে, এবং আজকেও করছে (সৌদি ক্রাউন প্রিন্স গত সপ্তাহেই পাকিস্তানে ও ভারতে ভ্রমণ করেছেন, এবং বিশাল অর্থসাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পাকিস্তানকে) — তাদের কি এই সমাধান আলোচনায় সামিল করা হবে? কারণ, কাশ্মীরের এই জটিলতা এবারে একেবারেই শেষ করা দরকার। 

প্রশ্ন ৭ — পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিলে কি সন্ত্রাস ও কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে? ধরা যাক, বিজেপি ও আর এস এস তো চিরকালই চেয়ে এসেছে পাকিস্তানের ধ্বংস। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই, আমরা পাকিস্তানকে ধ্বংস করে দিলাম একেবারে। তাহলে কি পাকিস্তানী শিশু এবং কয়েক কোটি মানুষের সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আসা বন্ধ হবে? তাদের প্রতিহিংসার ও প্রতিশোধের আগুন কি নিভে যাবে? অন্য দেশের সন্ত্রাসীরা কি তখন আরো বেশি করে ভারতের ওপর নানাভাবে সাবোটাজ ও সন্ত্রাসী হামলা চালাবে না? তার গ্যারান্টি কি মোদী ও আর এস এস সরকার দিতে পারবে?

প্রশ্ন ৮ — এই সমস্ত যুদ্ধ ও সন্ত্রাস দমনের কাজ শেষ হলে ভারতের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি, জনবিস্ফোরণ, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট, ভয়াবহ কৃষি ও বেকার সমস্যা, রাফায়েল চক্রান্ত, নীরব মোদী-বিজয় মাল্য-আম্বানি জাতীয় অতি বিশাল মাপের দুর্নীতি ও স্ক্যাণ্ডাল মোদী সরকার কি মোকাবিলা করবে অনতিবিলম্বে? 

প্রশ্ন ৯ — যুদ্ধ ও সন্ত্রাস দমন হয়ে গেলে মোদী ও বিজেপি সরকার কি সরকারি ব্যাঙ্ক, শিল্প, ইন্স্যুরেন্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবহন — এসব সেক্টরকে সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ করে ফেলবে? এক ডলারে এখন ৭২ টাকা। এবারে কি তা আই এম এফ ও বিশ্ব ব্যাংকের নির্দেশে ৮০ বা ৮৫ টাকা হয়ে যাবে? জিনিসপত্রের দাম, তেলের দাম, পরিবহণ, মেডিকেল, শিক্ষা — এসবের খরচ কি আরো অনেক বেড়ে যাবে? 

প্রশ্ন ১০ — এবারের নির্বাচনে জয়লাভ করলে মোদী ও বিজেপি এবং আর এস এস কি ভারতের সংবিধানকে সম্পূর্ণভাবে বদলে ফেলবে, যাতে রাজনৈতিক বিরোধিতাকে প্রকাশ্যেই দেশদ্রোহিতা বলে ঘোষণা করা যায়, এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দেশদ্রোহিতার দোষে সাংবিধানিকভাবে শাস্তি দেওয়া যায়?

উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো। আপনাদের সকলকে উত্তর খুঁজে বের করার জন্যে প্রেরণা, উদ্দীপনা ও উৎসাহ দিতে থাকবো। 

ভারত মাতা কি জয়। জয় হিন্দ। বন্দে মাতরম। 
_________________
ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্ক 
২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ 

পুলওয়ামা – Pulwama Terror!

Bengali article on the terrorism and tragedy, and ensuing knee-jerk reaction, followed by war drumbeat. Here’s the analysis big media won’t dare to do. They are afraid of losing their ratings and profit. We aren’t.

সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বলবো। ইসলামী সন্ত্রাসকে মানবসভ্যতার ভয়ংকর শত্রু বলে চিহ্নিত করবো। পুলওয়ামার শহীদ সেনাদের জন্যে চোখের জল ফেলবো। তাঁদের পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াবো। দেশপ্রেম আমারও কম নয়। আপনাদের অনেকের থেকে বেশি। সে আমি যেখানেই থাকিনা কেন। স্বর্গে, নরকে, বা পৃথিবীতে।



আমি কমিউনিস্ট নই। কংগ্রেসি নই। মাওবাদী নই। বিজেপি একেবারেই নই। জঙ্গি হিন্দুবাদী আর এস এস — ছিলাম বহুকাল। ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছি। ছেড়ে দিয়ে আসার পরে অনেক বেশি হিন্দু, ভারতীয় আর বাঙালি হয়েছি। যত বয়েস বাড়ছে, তত বেশি করে মিথ্যা ও বঞ্চনার রাজনীতি, ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতি চোখের সামনে পরিষ্কার হয়ে উঠছে।

কয়েকটা কথা খুব সোজাসুজি বলবো।

কোনো মিডিয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেনা। কোনো মিডিয়া ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেনা। কোনো মিডিয়া এই অন্ধ দেশপ্রেম নামক হাঁটুঝাঁকানি রগরগে “রক্ত চাই” হিন্দু জিহাদের বিরুদ্ধে জোরগলায় প্রতিবাদ জানাবেনা। তাদের রেটিং পড়ে যাবে। মুনাফার ক্ষতি হবে মারাত্মক।

কংগ্রেস ঠিক এই আমেরিকার ডেমোক্রেটিক পার্টির মতোই সফ্ট যুদ্ধবাদিতার রাস্তা নেবে। এলিট লিবারালরা চুপ করে থাকবে — কারণ কোনো আঁচই তাদের গায়ে লাগেনা। আমার বেশ কিছু বুদ্ধিমান লেফটি বন্ধু এখনই রক্তের বদলে রক্ত চাই খেলায় নেমে পড়েছে। মগজ শুধু বোকাদের ধোলাই হয়নি। বামপন্থীদেরও হয়েছে।

সন্ত্রাসী হামলা হলে শাসকশ্রেণীর খুব সুবিধে। তার ওপর যদি আবার পাকিস্তানের দিক থেকে আসে। কাশ্মীরের দিক থেকে আসে। ভোটের ঠিক তিন মাস আগে চল্লিশজন জওয়ান খুন হলে মোটামুটিভাবে বলে দেওয়া যায়, ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় থাকবে। এবং তারপরে যা খুশি তাই করবে। যারা বেসুরে গাইবে, তাদের হয় শারীরিকভাবে, নয়তো মানসিকভাবে নির্যাতন করা হবে। জেল, জরিমানা, কিংবা ট্রোল শিকার হবে তারা। হ্যাকিং হবে।

দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হবে তাদের। এবং তাদের নিজেদের পরিবার, সমাজ ও বন্ধুরাই তাকে ত্যাগ করে চলে যাবে।

কোনো তদন্ত হবেনা। কোনো প্রশ্ন উঠবেনা। কোনো চ্যালেঞ্জ কারুকে মোকাবিলা করতে হবেনা।

কখনো জিজ্ঞেস করা হবেনা, যে কাশ্মীরে ভীষণ নিরাপত্তার ঘেরাটোপ, যেখানে মাছিও গলেনা, সেখানে কীভাবে সন্ত্রাসীরা চল্লিশজন অস্ত্রধারী সৈনিককে হত্যা করে চলে যায়। আমরা জানতে চাইবোনা। কারণ, আমরা এখন ক্রুদ্ধ। আমরা এখন “শান্তি চাইনা, যুদ্ধ চাই।”

ঠিক যেমন আমরা কখনো জিজ্ঞেস করিনি, মুম্বাই ব্ল্যাক ক্যাট সিকিউরিটির তাজ হোটেলে সন্ত্রাসীরা কীভাবে মেশিন গান নিয়ে ঢুকতে পেরেছিলো। ঠিক যেমন এই আমেরিকায় কেউ জিজ্ঞেস করেনি, চার চারটে এয়ারপোর্টের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এড়িয়ে কীভাবে ৯/১১ সন্ত্রাসীরা গলে ঢুকেছিলো। জিজ্ঞেস করলে আপনাকে দেশদ্রোহী বলা হবে। সরকার বলবে, মিডিয়া বলবে, প্রিজন কর্পোরেশনের মালিকরা উল্লসিত হবে, এবং আপনার নিজের লোকেরাই আপনাকে কুষ্ঠরোগীর মতো দেখবে।

কখনো জিজ্ঞেস করা হবেনা, ১৯৪৭ থেকে এই ২০১৯ — এতগুলো বছরেও কেন কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা হলোনা। কেন ভারত ও পাকিস্তান এবং তাদের পিছনে পুতুলনাচের কারিগর আমেরিকা ও সি আই এ — কাশ্মীরকে ঠিক রাজনৈতিক ব্রিজ খেলার তুরুপের তাসের মতো ব্যবহার করে এসেছে। ঠিক যেমন মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ও আমেরিকা প্যালেস্টাইনকে আর এক আশ্চর্য শক্তিশালী তুরুপের তাসের মতো হাতের তেলোয় লুকিয়ে রেখেছে, এবং যখন খুশি ব্যবহার করেছে।

কেউ জিজ্ঞেস করবেনা, কেন কাশ্মীর ও প্যালেস্টাইনে মানুষ এতো গরিব। এতো অসহায়। এতো বঞ্চিত। শোষিত কথাটা ব্যবহার করলামনা, কারণ কমিউনিস্টরা কথাটাকে একেবারে চিবিয়ে ছিবড়ে করে দিয়েছে। ও কথাটার আসল মানে আর কেউ বোঝেনা।

সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীরা ভীষণ দারিদ্র্য থেকেই রক্তবীজের মতো জন্মায়, বড় হয়। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয় ধর্মান্ধরা। তাদের মগজ ধোলাই করে ধর্মের নামে, দেশপ্রেমের নামে। তারপরে সেই সন্ত্রাসীরা হয় নিরীহ মানুষদের, শিশুদের, নারীদের, আর নয়তো পুলওয়ামার জওয়ানদের মতো টার্গেট খুঁজে বের করে।

তারপরে, ঘৃণা, হিংসা ও যুদ্ধের ব্যবসায়ীরা সে সন্ত্রাসকে কাজে লাগিয়ে আরো অনেক বেশি সন্ত্রাস শুরু করে। তখন চল্লিশজন নয়, চারশো জন, চার হাজার জন, চল্লিশ হাজার জন নিরীহ মানুষ — পুরুষ, নারী ও শিশু শেষ হয়ে যায়। অনেকে হাত পা চোখ নাক পেট হারিয়ে বাকি জীবন কাটায়।

কিন্তু তখন সে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বলা হয়না। বলা হয় দেশপ্রেম। প্রতিরক্ষা। প্রতিশোধ।

তখনও কেউ কোনো প্রশ্ন করেনা। যারা গান্ধীকে মেরেছিলো, তারা গান্ধীবাদী দেশপ্রেমিক আখ্যা পায়। মানুষ তাদের আবার ভোট দেয় লাইনে দাঁড়িয়ে। 
________________________

নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, “Real leaders must be ready to sacrifice all for the freedom of their people” — প্রকৃত নেতারা তাদের মানুষের স্বাধীনতার জন্যে যেন সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকে। হাল্লা রাজার মন্ত্রী যুদ্ধে যায়নি। দূর থেকে দেখেছিলো। তার সঙ্গে ছিল অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান। আর খেতে না পাওয়া সৈন্যরা গিয়েছিলো যুদ্ধে।

সে অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ করেছিল দুই সাধারণ মানুষ।

______________________________________________

ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্ক
১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

Koreas Choose Peace. Why Can’t India and Pakistan?

It’s mighty good news for people around the world who reject war and violence, and demand coexistence and peace. The Korea’s — North and South — decided to end their seventy-year-old war.

So, American propaganda to demonize North Korea did not work. Just the other day, U.S. media corporations and their mouthpiece politicians — Trump and all — declared North Korea was a demon, a major threat for world peace, and it must be destroyed. In fact, Republican and Democratic administrations for decades have told us that.

Suddenly, the two Koreas met at the PyeongChang 2018 Olympic Winter Games, and American media and their Trumps began scratching their heads. War industries were terribly upset at the prospect of peace between the two countries.

Not only the two Koreas declared peace, but according to New York Times today, Korean Leaders Meet, Eyeing a Peace Free of Nuclear Arms!!!

Of course, war industries would be terribly upset, but let them be more upset.
__________

India Pakistan peaceNow, if only India and Pakistan could learn how to make peace! Their 24/7 media propaganda and political parties would be bankrupt, if the two countries with thousands of years of common history could realize it! Only if the people realized how their ruling class has cheated us, based on lies and concocted violence!

Yet, the situation is so strikingly similar. Just like South Korea and North Korea, India and Pakistan have been at war and major armed conflicts since the British left the subcontinent after two hundreds years of looting and ravaging one of the most peaceful and prosperous places on earth, and then cutting up the country in three different parts — causing incredibly misery and bloodshed.

Just like the Koreas, or like places in the Middle East, partitions and artificial boundaries were imposed by the occupying forces. In case of India and Pakistan, the line of partition often went through a piece of land, where the kitchen and bedroom of the same houses fell in two different countries!

All the rulers — democratically elected rulers in India and mostly military regimes in Pakistan along with a couple of elected leaders — kept the violence and armed conflicts alive. Indian and Pakistani rulers greatly benefited from this long, bloody, cruel wars and hostility that killed and impoverished millions of Hindus and Muslims.

Every time the government is in trouble, a cooked-up war would break out!

And USA powers and corporations are now deep inside India, in an unprecedented, disastrous way. American corporations have practically taken over the Indian economy. I have never seen such a complete takeover of India’s economy by foreign forces. This is neo-colonization at its peak!

American rulers have supported Pakistan for decades with arms, and they have supported military dictators in Pakistan. In 1971, with active support from Kissinger and U.S. government, Pakistani military caused havoc in Bangladesh (which was East Pakistan at that time), killing and raping hundreds of thousands of ordinary innocent men and women. They had extremist Muslims helping them on the ground.

But that’s another story. For now, if India and Pakistan take note of this peace declaration and de-nuclearization of the two Koreas, and find a way to emulate them, it would bring a very long-overdue peace in the land of Gandhi and Tagore.

We have had enough! We do not want another war. And do not war any N-bombs! 

Hands off, America! Hands off, Trump! Hands off, British and European powers!

Sincerely,

Partha Banerjee

Brooklyn, New York

###

tagore-gandhi