১৫ই আগস্ট। ভারতের স্বাধীনতা, গান্ধীহত্যা, এবং বাংলাদেশে মুজিব হত্যা।

To show my patriotism, I share some precious history about India’s Independence, and about Gandhi and Mujib assassinations by Hindu and Muslim fanatic groups.

পনেরোই আগস্ট।

১৯৪৭ সালে এই দিন ভারত স্বাধীন হয়েছিল, এবং আমাদের দেশকে ব্রিটিশরা তিন টুকরো করে দিয়ে, সব সম্পদ লুটে নিয়ে অবশেষে ফিরে গিয়েছিলো। অর্থনৈতিকভাবে এবং সামাজিকভাবে একটা অতি ধনী ভূখণ্ড ও তার মানুষকে দুশো বছরের মধ্যে সর্বস্বান্ত করে দিয়ে, হিংসা ও ঘৃণার বীজ বুনে দিয়ে, এবং ফিউডাল ও রক্ষণশীল জাতের একটা শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে চলে গিয়েছিলো তারা। রক্তাক্ত হয়েছিল বিশেষ করে বাঙালি ও পাঞ্জাবি এই দুই জাতি।

এসব কথা কিছু কিছু অনেকে জানে। কিন্তু নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে যেটা জানেনা, বা তাদের জানানো হয়নি, তা হলো মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে আসার প্রায় একশো বছর আগে থেকেই ভারতীয় হিন্দু ও মুসলমানরা একসাথে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছে, সর্বত্যাগ করেছে। জেলে অত্যাচারিত হয়েছে। ফাঁসি গেছে। শহীদ ভগৎ সিং, শুকদেব, রাজগুরু, ক্ষুদিরাম, চন্দ্রশেখর আজাদ, প্রফুল্ল চাকী, সূর্য সেন, প্রীতিলতা, বাঘা যতীন, বারীণ ঘোষ, বিনয়-বাদল-দীনেশ, কানাই-সত্যেন, উল্লাসকর, কল্পনা দত্ত। অসংখ্য নাম। বিবেকানন্দের ভাই বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের বই “ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম” পড়ুন। কলকাতা ও ঢাকায় পাওয়া যায়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভগিনী নিবেদিতার সক্রিয় ভূমিকা। আবার পূর্ববঙ্গে বহু মুসলমান যুবক স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হয়েছেন। আমরা তাঁদের মনে রাখিনি।

তারপর কংগ্রেস, নেতাজি সুভাষ বসু, মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, নেহেরু, প্যাটেল, তিলক, সুরেন ব্যানার্জি, লাজপত রায়, বিপিন পাল, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। অসংখ্য নাম, বিশাল ইতিহাস।

রক্ত যারা দেয়নি, একফোঁটা রক্ত যারা দেয়নি ,স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেনি, লুকিয়ে ছিল, তারা আজ ভারতের শাসনক্ষমতায়। ও হ্যাঁ, ১৯৪৭’এর ১৫ই আগস্ট আর ১৯৪৮’এর ৩০শে জানুয়ারি — এই সামান্য সময়ের মধ্যেই তাদের কাজ ছিল গান্ধীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা। নাথুরাম গডসে, সাভারকার, গোপাল গডসে, আপ্টে, কারকার, পারচুরে, আরো কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী হিংস্র লোক। প্রত্যেকেই আর এস এস, হিন্দু মহাসভা — এই সব চরমপন্থী, সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় কর্মী।

আর এস এস কখনো গান্ধীহত্যার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। নাথুরাম গডসে ফাঁসির দড়িতে ঝোলবার আগে আর এস এসের প্রার্থনা “নমস্তে সদা বৎসলে মাতৃভূমে” আবৃত্তি করেছিল — এরকমই ইতিহাস পড়েছি আমি। আর এস এস নয়? (আমি আর এস এসে থাকার সময়ে এসব কথা কখনো শুনিনি। কেউ বলেনি।)
__________________________

ফাস্ট ফরওয়ার্ড। আমরা তখন কলেজে পড়ি। ১৯৭৫ — জরুরি অবস্থা ভারতে সবে জারি হয়েছে। এই সময়ে এক সন্ধ্যেবেলা পানের দোকানের ট্রানজিস্টর রেডিওতে খবর শুনলাম। ঢাকায় একদল হিংস্র আততায়ী শেখ মুজিবের বাড়িতে ঢুকে বাড়ির সবাইকে গুলি করে শেষ করে দিয়ে গেছে। শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। অনেক পরে ধানমণ্ডির সেই বাড়িতে গিয়ে দেখে এসেছিলাম। দেওয়ালে এখনো বুলেটের আর রক্তের দাগ।

কারা মেরেছিলো মুজিবকে? এখন আমরা সবাই জানি। ইসলামী চরমপন্থী, সন্ত্রাসী দলগুলোর লোকজন, আর তাদের সঙ্গী মিলিটারির কিছু সৈন্য ও জেনারেল। শেখ হাসিনা এবং বোন রেহানা সেই ভয়াবহ গণহত্যা থেকে রেহাই পেয়েছিলেন ভাগ্যক্রমে। তাঁরা তখন ব্রিটেনে ছিলেন। আজ শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শহীদের মেয়ে শহীদের রক্তের দাম বোঝেন।

হ্যাঁ, কংগ্রেস প্রচন্ড দুর্নীতি করেছে ভারতে। হ্যাঁ, মুজিবুর রহমান অনেক জনবিরোধী কাজ করেছেন ১৯৭১’এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৫’এর আগস্ট পর্যন্ত। সমাজবাদী দলগুলোকে, শ্রমিক দলগুলোকে শেষ করে দিয়েছেন। ব্যক্তিকেন্দ্রিক, পরিবারতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছেন। ঠিক ইন্দিরা গান্ধীর মতোই।

ঠিক যেমন মহাত্মা গান্ধী জমিদার, জোতদার, সামন্ততান্ত্রিক, রক্ষণশীল, এবং পুঁজিপতি শিল্পপতিদের স্বার্থরক্ষা করেছেন। বিপ্লবী ও বামপন্থীদের পাৰ্জ (purge) করেছেন কংগ্রেস থেকে। সমাজবাদী মনোভাবের, সৎ ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে ক্ষমতাহীন করেছেন। 
______________________

কিন্তু তাও মহাত্মা গান্ধী শহীদ। শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ। ইন্দিরা গান্ধী শহীদ। রাজীব গান্ধীও শহীদ। ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয়েছিল। ভগৎ সিং, শুকদেব, রাজগুরুর। দীনেশ গুপ্তর। প্রফুল্ল চাকীর মাথা কেটে ট্রেনে কলকাতায় পাঠিয়েছিল ব্রিটিশ পুলিশ সনাক্ত করার জন্যে। সূর্য সেনকে জেলে অত্যাচার করে মেরে ফেলেছিলো ওরা। সন্ধ্যা, কল্পনাকে যৌন অত্যাচার করেছিল।

আর এস এস তখন নাগপুরে, বেনারসে রাস্তায় রুট মার্চ করছে।

__________________________

শেখ মুজিবকে মেরেছিলো কিসিঞ্জার ও সি আই এ (অর্থাৎ মার্কিন শাসকশ্রেণী)’র মদতপুষ্ট জঙ্গী ইসলামী শক্তি ও তাদের সমর্থক মিলিটারি। পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফাঁসি দিয়েছিলো মিলিটারি শাসকরা। তাদেরও পিছনে ছিল সিআই এ (অর্থাৎ মার্কিন শাসকশ্রেণী)।

আজ ভারতের স্বাধীনতা দিবস। একটু ইতিহাস পড়া, ইতিহাসের গল্প জানা — বোধহয় ভালো।

দেশপ্রেম হলো শিক্ষার, চেতনার আলোতে, ইতিহাসের আলোতে জীবন কাটানো।

অন্য সব দেশভক্তি — ওই নাথুরাম গডসে, সাভারকারের দেশপ্রেমের মতো। 
____________________________________

কাল রেকর্ড করা আমার ভিডিও আলোচনা এখানে দেখুন প্রশ্ন করুন। চ্যালেঞ্জ করুন। শেয়ার করুন। Link at https://www.youtube.com/watch?v=uS8x2Il-o2U

ভারতের নির্বাচনের ফলাফল — মগজধোলাই আর ধর্মান্ধতার জয়।

কী কারণে এমন হলো, একটু দেখে নেওয়া যাক। ভুলে যাবার আগে।

অবশেষে দেখা গেল, শাসক শ্রেণী ও তাদের মিডিয়ার অষ্টপ্রহর গোয়েবলস অপপ্রচার আর মিথ্যাচার সাধারণ মানুষের মগজধোলাইয়ে পুরোপুরি ভাবে সফল। দেশ এখন আবার সরকারি ভাবে ধর্মান্ধদের দখলে। সাধারণ মানুষ অর্থাৎ 99% আজ হিন্দু ধর্মান্ধতা, লাগামছাড়া কর্পোরেট পুঁজিবাদ, হিংসা ও ঘৃণার রাজনীতি, ফ্যাসিজমের পক্ষে রায় দিয়েছে।

পুলওয়ামা সন্ত্রাসে ভারতীয় সেনাদের মৃত্যু, যুদ্ধজিগির, উগ্র দেশপ্রেমের টনিকে খাদ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, দারিদ্র্য, রাস্তাঘাটে বাচ্চাদের পড়ে থাকা — এসব real life issue থেকে মানুষের মনকে ঘুরিয়ে দেওয়া হল।

বেকারিত্ব, চাষিদের আত্মহত্যা, রাস্তাঘাটে, গ্রামেগঞ্জে মেয়েদের ধর্ষণ, মুসলমানদের ওপর, দলিতদের ওপর বর্বর অত্যাচার, ভয়ঙ্কর পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যসঙ্কট, জিনিষপত্র ও পরিবহণের আকাশচুম্বী খরচ, ব্যাংকের সুদ দ্রুত কমিয়ে দেওয়া, দেশজ শিল্প ও কৃষির বিপর্যয়, অর্থনীতির সম্পূর্ণ বেদখল হওয়া, ইত্যাদি অতি জরুরী বিষয় নিয়ে নির্বাচন নামক এই প্রহসনে কোনো আলোচনাই হলোনা।

মানুষের দৃষ্টি নোটবন্দী, জিএসটি, আধার কার্ড এসব থেকে সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেওয়া হলো। তথ্য, যুক্তি, বিশ্লেষণ এসব অপপ্রচার আর মিথ্যাচারের তোড়ে ভেসে গেল খড়কুটোর মত। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মত সেরকম কোন বিপক্ষ শক্তিও আর থাকল না।

কর্পোরেট মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া অতি সফলভাবে নরেন্দ্র মোদীকে একমাত্র নেতা এবং বিজেপিকে একমাত্র দল হিসেবে প্রজেক্ট করতে সক্ষম হলো। ঠিক এই আমেরিকার মতই একপেশে প্রচার হলো। বিরোধী দলগুলোর সেরকম কোনো সর্বজনগ্রাহ্য নেতা বা নেত্রীও দেখা গেলোনা, বা প্রকৃতভাবে একজোট হয়ে লড়াই করার কোনো আকাঙ্ক্ষাও দেখা গেলোনা। রাহুল গান্ধী ও তার পরিবারকে মানুষ অল্টারনেটিভ নেতৃত্ব বলে স্বীকার করতে, মেনে নিতে পারলোনা। রাহুল গান্ধী নিজে নির্বাচনে পরাজিত হলেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা ভাঁড়িয়ে, ক্রিমিনাল রেকর্ড চাপা দিয়ে, এবং প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী উক্তি করেও বিজেপি নেতা ও নেত্রীরা রমরম করে নির্বাচনে জয়লাভ করলেন।

হিন্দি প্রচার, হিন্দু সংখ্যাগুরুত্বের, এবং পুরুষতান্ত্রিকতার জয় হলো। এই জয় আরো বেশি প্রকট হয়েছে অহিন্দিভাষী দক্ষিণী রাজ্যগুলোতে বিজেপির এই ঝড় সম্পূর্ণ রোধের মধ্যে দিয়ে। কেরালা, তামিলনাডু এবং অন্ধ্রতে এই তুমুল বিজেপি ঝড়েও কোনো দাগ কাটেনি। কেরালায় বিজেপি একটাও কেন্দ্রে জেতেনি। ওড়িশাতেও নবীন পটনায়েকের দুর্গ অক্ষত আছে।

পশ্চিমবাংলায় সিপিএম ও কমিউনিস্ট পার্টি উড়ে চলে গেছে। তাদের অপশাসন, গুণ্ডাবাজি ও প্রাচীনপন্থী, পুঁজিবিরোধী অপশাসনের ফলে তৃণমূল এসেছিলো। এখন তৃণমূলের চরম অশিক্ষা, অপশাসন ও দুর্নীতির ফলে বিজেপির ক্ষমতায় আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

বাংলায় বিজেপি রাজ্য সরকার! দুবার কি তিনবার কথাটা নিজের মনে মনে উচ্চারণ করে দেখুন, কেমন লাগে।
‌__________________________

ধন্যবাদ কংগ্রেস পার্টি ও গান্ধী পরিবারকে, আপনাদের‌ দীর্ঘদিনের অপশাসন, অক্ষমতা, মিথ্যে প্রতিশ্রুতিকে। আপনাদের পারিবারিক রাজতন্ত্রকে।

ধন্যবাদ কমিউনিস্ট পার্টি, আপনাদের সীমাহীন ঔদ্ধত্য আর গুন্ডাবাজীর রাজনীতিকে।পশ্চিমবঙ্গকে উচ্চমেধা থেকে নিম্নমেধা করে তোলার অসীম ক্ষমতাকে।

আর পশ্চিমবঙ্গ নামক একসময়ের উদারপন্থী, প্রগতিশীল রাজ্যে খাল কেটে কুমির আসার রাস্তা তৈরী করে দেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ তৃণমূল‌ কংগ্রেসকে।
__________________________

আমার প্রিয় দুই দেশ ভারত — আমার জন্মস্থান, যেখানে আমি জন্মেছি, বড় হয়েছি, বাংলা ভাষা, গান, মানুষ কে ভালোবাসতে শিখেছি, আর আমেরিকা — কর্মস্থান, যেখানে আমার বাকী জীবন কাটছে, বাকী জীবনটা আমি এই দুটো দেশেই ফ্যাসিস্ট শাসকদের অধীনে কাটাব।

এই দুই দেশে থাকা আমার পরিবার পরিজন, সন্তান, হাজার বন্ধুবান্ধব সবাই এই প্রগৈতিহাসিক‌ মানসিকতার রেসিস্ট, সেক্সিস্ট শাসকদের ঠিক করে দেওয়া নিয়মকানুন মেনে চলতে বাধ্য হবে।

‌‌ “প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা
চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠফাটা রোদে সেঁকে চামড়া।”

আমি নিশ্চিত, এখন আবার হিটলার, মুসোলিনি, ফ্রাঙ্কো, কু ক্লাক্স ক্ল্যানের দিন সমাসন্ন। নিষ্ঠুর,অন্ধকার শক্তিরা‌ আমাদের গ্রাস করতে আসছে। আবারও সারা পৃথিবী জুড়ে যুদ্ধ, রক্তক্ষয়, হিংসার আবহ তৈরী হবে।

এর সাথে যোগ হবে বিপজ্জনক হারে জলবায়ুর পরিবর্তন, মানুষের মৃত্যু, ভয়ানক দারিদ্র্য, রোগ ও দূর্ভিক্ষ। ভারতে ও বাংলায় মুসলমান, দলিত ও মেয়েদের ওপর নির্মম অত্যাচার নেমে আসবে ঘরে ও বাইরে।

রবীন্দ্রনাথ ইতিহাস হবেন।
_____________________

এই অন্ধকারের মধ্যে আমি আমার‌ সীমিত ক্ষমতায় মানুষকে যুক্তি দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করার শিক্ষা দিয়ে যাওয়ার কাজ করে যাব যতটুকু পারি। আর কীই বা করা আমার পক্ষে সম্ভব? আমার না আছে মিলিয়ন ডলার, আর না আছে উচ্চ বংশলতিকা। রিচ বা ফেমাস — কোনোটাই আমি নই।

যদি আপনারা চান, ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেন, তাহলে এই হতাশা, বিহ্বলতা এসব দূরে সরিয়ে এই কঠিন সময়ে আমার পাশে থাকুন। না, আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর বা সব‌ সমস্যার সমাধান দেবার ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, আমরা একসাথে মিলে কোন একটা রাস্তা ঠিক খুঁজে বের‌ করতে পারব।

হ্যাঁ, এবারে ওরা বিরোধীদের ধ্বংস করবে, মানুষের মনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরী করবে। আমাদের‌‌ অনেকে ওদের‌ সাথে হাত মেলাবে। প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গও‌ আর কয়েক বছর পর‌ ওদের‌ দখলে চলে যাবে। এসবই সত্যি।

কিন্তু, খুব শিগ্গিরি সাধারণ মানুষ, ৯৯%, যারা তাদের ভোট দিয়ে জিতিয়েছে, নিজেদের ভুল‌ বুঝতে পারবে, তাদের বাস্তব জীবনের সংকটের কথা বুঝতে পারবে। সেই চরম বিপদের সময় তাদের যদি সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন যেন আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে তৈরী থাকি।

এখনকার মত শুধু এইটুকু মনে রাখুন, যে একদল “দেশভক্ত,” যারা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি, একফোঁটা রক্তও দেয়নি, যারা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, আম্বেদকরকে চিরকাল ঘৃণা করে এসেছে, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে, আর নাথুরাম গডসের মূর্তি গড়েছে, তারাই আজ দেশের দায়িত্বে।

হয়ত,আমাদের বাকী জীবনটা তাদের অধীনেই কাটাতে হবে।

যোগাযোগ রাখুন।
_____________

ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
নিউ ইয়র্ক

ধরা যাক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলো। পাকিস্তানে শত্রুকে গুঁড়িয়ে দিলাম আমরা। তারপর কী? কয়েকটা প্রশ্ন করা চলবে?

Can we condemn terror from Pakistan into India, and after supporting a bombing campaign inside Pakistan to destroy terrorist camps, ask some important questions — especially to those who call me anti-India traitor, or at least unpatriotic? Please answer my ten questions.


আমার বন্ধুরাই আমাকে পাকিস্তানী বলছে। দেশদ্রোহী বলছে। বলছে আমি নাকি দেশের এই সংকটে যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে ভারতের শত্রুর মতো আচরণ করছি। আমি নাকি একজন “enemy within” বা ঘরের শত্রু। আমাদের মতো লোকদের আগে শায়েস্তা করা দরকার। 
তাই আমি ভেবে দেখলাম, আমি খুব অন্যায় করছি। এমন তো নয় যে আমি সবজান্তা, আর কেউ কিছু জানেনা। আমিই একমাত্র ইতিহাস পড়েছি, আর কেউ পড়েনি। আমিই একমাত্র খাঁটি দেশপ্রেমিক, আর সবাই ইডিয়েট। তাছাড়া, ভয়ও আছে, কে কোথায় রাস্তায় ধরে ধোলাই দেবে। কী দরকার?

তারপর ধরুন, প্রত্যেকের প্রতিই আমার শ্রদ্ধা আছে। আমি সম্মান দিতে জানি মানুষকে। সুতরাং, যুদ্ধের পক্ষে, পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে বোমা ফেলার বিজেপি সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে আমি সম্পূর্ণ সহমত না হলেও, শুধুমাত্র তাদের দেশপ্রেমকে সম্মান জানানোর জন্যে — ধরা যাক, আমি আমার যুদ্ধবিরোধী অবস্থান আজকের জন্যে পরিবর্তন করলাম। হোক যুদ্ধ, হোক বোমাবর্ষণ। সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দাও। জৈশ আর যারা যারা আছে, উড়িয়ে দাও তাদের সব কটাকে। 

পুলওয়ামার শহীদ সেনাদের জন্যে আমার যে কৃতজ্ঞতা, তা আমি আগেও লিখেছি। তাদের মৃত্যু যেন ব্যর্থ না হয়। রক্তের বদলে রক্ত চাই। ধরা যাক, ভালোই হবে। 

এসব প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেলে, তারপরে আমি কতগুলো প্রশ্ন করতে পারি কি? আশাকরি, আমার ওই বন্ধুরা আমাকে সে সুযোগ দেবে। 

যদি দেয়, তাহলে আমি এই কথাগুলো বলবো। 

ওরা যদি উত্তর না দেয়, আপনারা দিন। বা, আমার থেকে যারা অনেক বেশি জানে, তাদের বলুন উত্তর দিতে। 

হাজার হোক, আমি সামান্য মানুষ। কীই বা জানি এসব বিশাল বিশাল ব্যাপারের?___________________________

প্রশ্ন ১ — ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি জোন, যেখানে মাছি গলেনা, সেখানে সন্ত্রাসীরা ট্রাক বোমা নিয়ে এসে পঁয়তাল্লিশ জন অস্ত্রধারী, ট্রেনিং নেওয়া সৈনিককে উড়িয়ে দিলো কী করে? তার কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি? কে দায়ী এই ভয়াবহ মৃত্যুর জন্যে, এই সৈনিকদের গণহত্যার জন্যে, তার সনাক্তকরণ হবে কি? 

প্রশ্ন ২ — এখনো পর্যন্ত এই বিশাল নিরাপত্তা গাফিলতির জন্যে কোনো জেনারেল, কর্ণেল, মন্ত্রী বা নিরাপত্তা অফিসার পদত্যাগ করেছে কি? কোনো ব্যাংকের ভল্টে  যদি ডাকাতি হয়, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অফিসার বা ব্যাংক ম্যানেজার যার কাছে সিকিউরিটির চাবিকাঠি থাকে, তার চাকরি যায়। কারণ তারা ডাকাতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতার দায়িত্ব কর্পোরেট জগতে নিতেই হয়। আর এখন তো সরকার চলছে কর্পোরেট আমেরিকার মডেলে। তাহলে, এখানে তা হবেনা কেন? 

প্রশ্ন ৩ — শুনেছি, আগেই নাকি খবর এসেছিলো, সন্ত্রাসী হামলা হতে চলেছে। তারপরেও নিরাপত্তায় এতো বড় গর্ত থেকে গেলো কীভাবে? কেউ বা কারা কি ইচ্ছাকৃতভাবে এই সন্ত্রাস যাতে হয়, তা সুনিশ্চিত করেছে? তারা কারা? তাদের খুঁজে বের করা কি এতই অসম্ভব?

প্রশ্ন ৪ — আচ্ছা, ধরা যাক, ভারতের মিলিটারি ও এয়ার ফোর্স পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিলো। যদিও, আন্তর্জাতিক আইন বলেছে, একতরফাভাবে কোনো দেশের সীমারেখার মধ্যে ঢুকে বোমাবর্ষণ করা — কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনা ছাড়াই — সে দেশের সার্বভৌমত্ব (sovereignty) ধ্বংস করে, যা আন্তর্জাতিক আইনবিরুদ্ধ কাজ। যাই হোক, আমেরিকা আমাদের শিখিয়েছে, কীভাবে সারা পৃথিবীর বিরোধিতার তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে যুদ্ধ, বোমাবর্ষণ ও গণহত্যা করা যায়। ইরাক, ভিয়েতনাম, এখন সিরিয়া। সুতরাং, নিশ্চয়ই করা যায়। ধরে নিলাম। তাহলে, মোদী ও তাঁরা সরকার আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি? তারা কি গ্যারান্টি দেবে, আর কখনো এ ধরণের সন্ত্রাসী হামলা হবেনা?

প্রশ্ন ৫ — গ্যারান্টি ছাড়া একটা গাড়িও যখন আমরা কিনিনা, এমনকি একটা সেলাই মেশিন, তাহলে গ্যারান্টি ছাড়া আমরা যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণ ও তার পিছনে যে বিশাল অংকের অর্থব্যয়, তা কিনবো কী করে? এই কর্পোরেট সিস্টেমে নির্বাচন তো এখন বৃহত্তম মল, সুপারমার্কেট। 

প্রশ্ন ৬ — এই যুদ্ধের পরে কি কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান খুঁজে বের করা হবে? আমেরিকা ও সৌদি আরব জাতীয় দেশগুলো — যারা পাকিস্তানকে চিরকাল অস্ত্র ও অর্থসাহায্য করে এসেছে, এবং আজকেও করছে (সৌদি ক্রাউন প্রিন্স গত সপ্তাহেই পাকিস্তানে ও ভারতে ভ্রমণ করেছেন, এবং বিশাল অর্থসাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পাকিস্তানকে) — তাদের কি এই সমাধান আলোচনায় সামিল করা হবে? কারণ, কাশ্মীরের এই জটিলতা এবারে একেবারেই শেষ করা দরকার। 

প্রশ্ন ৭ — পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিলে কি সন্ত্রাস ও কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে? ধরা যাক, বিজেপি ও আর এস এস তো চিরকালই চেয়ে এসেছে পাকিস্তানের ধ্বংস। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই, আমরা পাকিস্তানকে ধ্বংস করে দিলাম একেবারে। তাহলে কি পাকিস্তানী শিশু এবং কয়েক কোটি মানুষের সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আসা বন্ধ হবে? তাদের প্রতিহিংসার ও প্রতিশোধের আগুন কি নিভে যাবে? অন্য দেশের সন্ত্রাসীরা কি তখন আরো বেশি করে ভারতের ওপর নানাভাবে সাবোটাজ ও সন্ত্রাসী হামলা চালাবে না? তার গ্যারান্টি কি মোদী ও আর এস এস সরকার দিতে পারবে?

প্রশ্ন ৮ — এই সমস্ত যুদ্ধ ও সন্ত্রাস দমনের কাজ শেষ হলে ভারতের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি, জনবিস্ফোরণ, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট, ভয়াবহ কৃষি ও বেকার সমস্যা, রাফায়েল চক্রান্ত, নীরব মোদী-বিজয় মাল্য-আম্বানি জাতীয় অতি বিশাল মাপের দুর্নীতি ও স্ক্যাণ্ডাল মোদী সরকার কি মোকাবিলা করবে অনতিবিলম্বে? 

প্রশ্ন ৯ — যুদ্ধ ও সন্ত্রাস দমন হয়ে গেলে মোদী ও বিজেপি সরকার কি সরকারি ব্যাঙ্ক, শিল্প, ইন্স্যুরেন্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবহন — এসব সেক্টরকে সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ করে ফেলবে? এক ডলারে এখন ৭২ টাকা। এবারে কি তা আই এম এফ ও বিশ্ব ব্যাংকের নির্দেশে ৮০ বা ৮৫ টাকা হয়ে যাবে? জিনিসপত্রের দাম, তেলের দাম, পরিবহণ, মেডিকেল, শিক্ষা — এসবের খরচ কি আরো অনেক বেড়ে যাবে? 

প্রশ্ন ১০ — এবারের নির্বাচনে জয়লাভ করলে মোদী ও বিজেপি এবং আর এস এস কি ভারতের সংবিধানকে সম্পূর্ণভাবে বদলে ফেলবে, যাতে রাজনৈতিক বিরোধিতাকে প্রকাশ্যেই দেশদ্রোহিতা বলে ঘোষণা করা যায়, এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দেশদ্রোহিতার দোষে সাংবিধানিকভাবে শাস্তি দেওয়া যায়?

উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো। আপনাদের সকলকে উত্তর খুঁজে বের করার জন্যে প্রেরণা, উদ্দীপনা ও উৎসাহ দিতে থাকবো। 

ভারত মাতা কি জয়। জয় হিন্দ। বন্দে মাতরম। 
_________________
ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্ক 
২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ 

একজন প্রাক্তন আর এস এস এক্টিভিস্ট হিসেবে বিজেপি বন্ধুদের কাছে কিছু প্রশ্ন

 
— পর্ব ১ —
_______________________

অবশ্য আমার কথাগুলো বলছি যারা উত্তর দিতে চায়, তাদের কাছে। যারা কিছু পড়বেনা, ভাববেনা, আর খুন জখম হ্যাকিং ট্রোলিং রক্ত চাই এসব রাস্তায় যাবে, তাদের কাছে নয়।

আমি মনে করিনা, আর এস এস অথবা বিজেপি মানেই “রক্ত চাই”এর দল। আমি তাদের সেন্টিমেন্ট বুঝি। অন্ততঃ, দেশপ্রেম যে তাদেরও আছে, তা বুঝি। আশা করবো তারাও বুঝবে আমিও একজন দেশপ্রেমিক। এবং আমার মতো অনেকেই যারা পুলওয়ামা নিয়ে যুদ্ধ ও রক্ত চাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারাও দেশপ্রেমিক।

কেউ দেশদ্রোহী নই আমরা। দেশের প্রতি, দেশের মানুষদের প্রতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা আছে। আমি নিজেকে একজন হিন্দু বলেই মনে করি। আমি ধর্ম ও অধ্যাত্ম মানি। কিন্তু ধর্মের নামে ধর্মান্ধতা, ঘৃণা ও গোঁড়া রক্ষণশীলতার বিরোধী। দেশ ছেড়ে এসে অন্য দেশে থাকলেই বিদেশী হয়ে যায়না। সংঘ পরিবারের হাজার হাজার সদস্য ও সমর্থক আমেরিকা ও ইউরোপে থাকে। তারা কি সবাই বিদেশী?

আমি ইসলামিক সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বলি। সভ্যতার শত্রু বলে চিহ্নিত করি। আমি কম্যুনিজমকে সমর্থন করিনা। আমি কংগ্রেসি রাজনীতিকে চিরকাল ঘৃণা করে এসেছি। অথচ, কংগ্রেসের মধ্যেও আমার বহু কাছের মানুষ ছিল ও আছে। সেরকম বামপন্থী দলগুলোর মধ্যেও আমার খুব কাছের মানুষদের আমি দেখেছি সারাজীবন। তাদের ত্যাগ ও দেশপ্রেমকে আমি শ্রদ্ধা করে এসেছি সারাজীবন।

আমার অনেক বিজেপি ও আর এস এস বন্ধু আছে। তাদের অনেককে আমি চল্লিশ বছর, এমনকি পঞ্চাশ বছর ধরে চিনি। আমি যখন ছ বছর বয়েসের শিশু, তখন ওই শিশু স্বয়মসেবক হিসেবে আর এস এসে ঢুকেছিলাম স্বর্গীয় পিতৃদেব শ্রী জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। জিতেন্দ্রনাথ ছিলেন সংঘ প্রচারক, এবং অটলবিহারী, আদভানির আজীবন বন্ধু। হিন্দুত্ববাদী নাথুরাম গডসে সাভারকার ইত্যাদি নেতাদের সাহায্যে গান্ধীহত্যা করার পরে যখন আর এস এস নিষিদ্ধ হয়, তখন আমার বাবা তিন বছরের মতো জেলে ছিলেন।

এই জেলে থাকার কারণে বাবা কখনো সরকারি চাকরি পাননি, এবং আমাদের সারাজীবন দারিদ্র্যের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। আমার মা নিজে না খেয়ে তার খাবারটা আমাদের অনেক সময়ে দিয়ে দিতো। এবং, খুব কম বয়েসে ক্যানসারে মারা যায়। যাক, সেসব অন্য কথা। অন্য প্রসঙ্গ।

আমাদের বাড়িতে আর এস এসের বিরাট বিরাট সর্বভারতীয় নেতারা আসতেন।ভাউরাও দেওরাস, নানাজী দেশমুখ, একনাথ রাণাডে — এমনকি গুরু গোলওয়ালকার — আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন, এবং স্নেহ করতেন।

আমি ছ বছর বয়েস থেকে বাইশ বছর বয়েস পর্যন্ত আর এস এস করেছি। শিশু স্বয়মসেবক থেকে বালক, তারপর তরুণ, তারপর শিক্ষক, মুখ্যশিক্ষক। তারপর জনসঙ্ঘ দলের হয়ে দিল্লি — জনতা পার্টি তৈরী হওয়ার প্রথম জাতীয় সম্মেলনে। আমাকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) পশ্চিমবঙ্গ সম্পাদক করা হয়েছিল। আমার অনেক বন্ধু সেসব দিনের কথা জানে। তাদের অনেকে এখন ফেসবুকেও আছে।

অদ্ভুত কথা হলো, তারা তখন আমার জনসঙ্ঘ, আর এস এস, এবিভিপি করা দেখে হাসতো। এখন তারা অনেকে হিন্দুত্ববাদীদের গোঁড়া সমর্থক। আর আমি চিরকালের মতো গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি।

কেন বেরিয়ে এলাম? সে অনেক কথা। আদর্শগত কারণেই বেরিয়ে এসেছি। আমি ঘৃণা, হিংসা, যুদ্ধবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করিনা। আমি আমার দুটো বই — ইংরিজি বই In the Belly of the Beast এবং বাংলা স্মৃতিকথা ঘটিকাহিনি’তে বিশদভাবে লিখেছি। পারলে পড়ে নেবেন।

ইংরিজি বইটা আউট অফ প্রিন্ট, কিন্তু কিছু কিছু অংশ পাওয়া যায় অনলাইনে। ঘটিকাহিনি সবে দুবছর আগে বেরিয়েছে। দেজ পাবলিশিং, ধ্যানবিন্দু, এবং প্রকাশক রাবণ প্রকাশনাতে পেয়ে যাবেন।

পড়ুন। প্রশ্ন করুন। চ্যালেঞ্জ করুন আমাকে।

(পর্ব ২ লিখবো। আশা করি আপনাদের জানার উৎসাহ থাকবে।)

পুলওয়ামা – Pulwama Terror!

Bengali article on the terrorism and tragedy, and ensuing knee-jerk reaction, followed by war drumbeat. Here’s the analysis big media won’t dare to do. They are afraid of losing their ratings and profit. We aren’t.

সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বলবো। ইসলামী সন্ত্রাসকে মানবসভ্যতার ভয়ংকর শত্রু বলে চিহ্নিত করবো। পুলওয়ামার শহীদ সেনাদের জন্যে চোখের জল ফেলবো। তাঁদের পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াবো। দেশপ্রেম আমারও কম নয়। আপনাদের অনেকের থেকে বেশি। সে আমি যেখানেই থাকিনা কেন। স্বর্গে, নরকে, বা পৃথিবীতে।



আমি কমিউনিস্ট নই। কংগ্রেসি নই। মাওবাদী নই। বিজেপি একেবারেই নই। জঙ্গি হিন্দুবাদী আর এস এস — ছিলাম বহুকাল। ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছি। ছেড়ে দিয়ে আসার পরে অনেক বেশি হিন্দু, ভারতীয় আর বাঙালি হয়েছি। যত বয়েস বাড়ছে, তত বেশি করে মিথ্যা ও বঞ্চনার রাজনীতি, ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতি চোখের সামনে পরিষ্কার হয়ে উঠছে।

কয়েকটা কথা খুব সোজাসুজি বলবো।

কোনো মিডিয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেনা। কোনো মিডিয়া ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেনা। কোনো মিডিয়া এই অন্ধ দেশপ্রেম নামক হাঁটুঝাঁকানি রগরগে “রক্ত চাই” হিন্দু জিহাদের বিরুদ্ধে জোরগলায় প্রতিবাদ জানাবেনা। তাদের রেটিং পড়ে যাবে। মুনাফার ক্ষতি হবে মারাত্মক।

কংগ্রেস ঠিক এই আমেরিকার ডেমোক্রেটিক পার্টির মতোই সফ্ট যুদ্ধবাদিতার রাস্তা নেবে। এলিট লিবারালরা চুপ করে থাকবে — কারণ কোনো আঁচই তাদের গায়ে লাগেনা। আমার বেশ কিছু বুদ্ধিমান লেফটি বন্ধু এখনই রক্তের বদলে রক্ত চাই খেলায় নেমে পড়েছে। মগজ শুধু বোকাদের ধোলাই হয়নি। বামপন্থীদেরও হয়েছে।

সন্ত্রাসী হামলা হলে শাসকশ্রেণীর খুব সুবিধে। তার ওপর যদি আবার পাকিস্তানের দিক থেকে আসে। কাশ্মীরের দিক থেকে আসে। ভোটের ঠিক তিন মাস আগে চল্লিশজন জওয়ান খুন হলে মোটামুটিভাবে বলে দেওয়া যায়, ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় থাকবে। এবং তারপরে যা খুশি তাই করবে। যারা বেসুরে গাইবে, তাদের হয় শারীরিকভাবে, নয়তো মানসিকভাবে নির্যাতন করা হবে। জেল, জরিমানা, কিংবা ট্রোল শিকার হবে তারা। হ্যাকিং হবে।

দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হবে তাদের। এবং তাদের নিজেদের পরিবার, সমাজ ও বন্ধুরাই তাকে ত্যাগ করে চলে যাবে।

কোনো তদন্ত হবেনা। কোনো প্রশ্ন উঠবেনা। কোনো চ্যালেঞ্জ কারুকে মোকাবিলা করতে হবেনা।

কখনো জিজ্ঞেস করা হবেনা, যে কাশ্মীরে ভীষণ নিরাপত্তার ঘেরাটোপ, যেখানে মাছিও গলেনা, সেখানে কীভাবে সন্ত্রাসীরা চল্লিশজন অস্ত্রধারী সৈনিককে হত্যা করে চলে যায়। আমরা জানতে চাইবোনা। কারণ, আমরা এখন ক্রুদ্ধ। আমরা এখন “শান্তি চাইনা, যুদ্ধ চাই।”

ঠিক যেমন আমরা কখনো জিজ্ঞেস করিনি, মুম্বাই ব্ল্যাক ক্যাট সিকিউরিটির তাজ হোটেলে সন্ত্রাসীরা কীভাবে মেশিন গান নিয়ে ঢুকতে পেরেছিলো। ঠিক যেমন এই আমেরিকায় কেউ জিজ্ঞেস করেনি, চার চারটে এয়ারপোর্টের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এড়িয়ে কীভাবে ৯/১১ সন্ত্রাসীরা গলে ঢুকেছিলো। জিজ্ঞেস করলে আপনাকে দেশদ্রোহী বলা হবে। সরকার বলবে, মিডিয়া বলবে, প্রিজন কর্পোরেশনের মালিকরা উল্লসিত হবে, এবং আপনার নিজের লোকেরাই আপনাকে কুষ্ঠরোগীর মতো দেখবে।

কখনো জিজ্ঞেস করা হবেনা, ১৯৪৭ থেকে এই ২০১৯ — এতগুলো বছরেও কেন কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা হলোনা। কেন ভারত ও পাকিস্তান এবং তাদের পিছনে পুতুলনাচের কারিগর আমেরিকা ও সি আই এ — কাশ্মীরকে ঠিক রাজনৈতিক ব্রিজ খেলার তুরুপের তাসের মতো ব্যবহার করে এসেছে। ঠিক যেমন মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ও আমেরিকা প্যালেস্টাইনকে আর এক আশ্চর্য শক্তিশালী তুরুপের তাসের মতো হাতের তেলোয় লুকিয়ে রেখেছে, এবং যখন খুশি ব্যবহার করেছে।

কেউ জিজ্ঞেস করবেনা, কেন কাশ্মীর ও প্যালেস্টাইনে মানুষ এতো গরিব। এতো অসহায়। এতো বঞ্চিত। শোষিত কথাটা ব্যবহার করলামনা, কারণ কমিউনিস্টরা কথাটাকে একেবারে চিবিয়ে ছিবড়ে করে দিয়েছে। ও কথাটার আসল মানে আর কেউ বোঝেনা।

সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীরা ভীষণ দারিদ্র্য থেকেই রক্তবীজের মতো জন্মায়, বড় হয়। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয় ধর্মান্ধরা। তাদের মগজ ধোলাই করে ধর্মের নামে, দেশপ্রেমের নামে। তারপরে সেই সন্ত্রাসীরা হয় নিরীহ মানুষদের, শিশুদের, নারীদের, আর নয়তো পুলওয়ামার জওয়ানদের মতো টার্গেট খুঁজে বের করে।

তারপরে, ঘৃণা, হিংসা ও যুদ্ধের ব্যবসায়ীরা সে সন্ত্রাসকে কাজে লাগিয়ে আরো অনেক বেশি সন্ত্রাস শুরু করে। তখন চল্লিশজন নয়, চারশো জন, চার হাজার জন, চল্লিশ হাজার জন নিরীহ মানুষ — পুরুষ, নারী ও শিশু শেষ হয়ে যায়। অনেকে হাত পা চোখ নাক পেট হারিয়ে বাকি জীবন কাটায়।

কিন্তু তখন সে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বলা হয়না। বলা হয় দেশপ্রেম। প্রতিরক্ষা। প্রতিশোধ।

তখনও কেউ কোনো প্রশ্ন করেনা। যারা গান্ধীকে মেরেছিলো, তারা গান্ধীবাদী দেশপ্রেমিক আখ্যা পায়। মানুষ তাদের আবার ভোট দেয় লাইনে দাঁড়িয়ে। 
________________________

নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, “Real leaders must be ready to sacrifice all for the freedom of their people” — প্রকৃত নেতারা তাদের মানুষের স্বাধীনতার জন্যে যেন সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকে। হাল্লা রাজার মন্ত্রী যুদ্ধে যায়নি। দূর থেকে দেখেছিলো। তার সঙ্গে ছিল অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান। আর খেতে না পাওয়া সৈন্যরা গিয়েছিলো যুদ্ধে।

সে অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ করেছিল দুই সাধারণ মানুষ।

______________________________________________

ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্ক
১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ল্যান্ড অফ ফ্রীডম, আমেরিকান ড্রিম?

তিরিশ বছর আগে যখন বিদেশী ছাত্র হয়ে আমেরিকায় এসেছিলাম, তখন এদেশটা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমাদের আগে আমাদের ফ্যামিলির কেউ কখনো এখানে এসে দীর্ঘকাল থাকেনি। কয়েকজন বন্ধুর পরামর্শে দেশের কলেজে পড়ানোর স্থায়ী চাকরি ছেড়ে দিয়ে এদেশে চলে এসেছিলাম অনেক ঝুঁকি নিয়ে। আজ তিন দশক পরে একবার ঘুরে দেখছি জীবনের দাঁড়িপাল্লায় কোনদিকটা ভারী হলো। দেশে থাকলে ভালো হত, না এখানে এসে বেশি ভালো হয়েছে। 

আসলে অনেক বড় বড় কথা, ভারী ভারী কথা লেখা যায়। বিদগ্ধ, পান্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা, বিতর্ক করা যায়। অনেক বড় বড় পন্ডিত করেওছেন। আমি পন্ডিত নই, তাই পন্ডিতের আলোচনা আমার শোভা পায়না। আমি আমার জীবন দিয়ে যা যা অনুভব করেছি, তার কিছু কিছু আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। 

আমার সদ্য-সমাপ্ত স্মৃতিকথা “ঘটিকাহিনি” কলকাতার রাবণ প্রকাশনা প্রকাশিত করেছেন। সে বইয়ের নাম দেওয়া যেতে পারতো “প্রথম জন্ম।”  এই খন্ডে আমি দেশের কথা লিখেছি। আমার কলকাতায় জন্ম, শৈশব,বাল্য, যৌবন এবং প্রথম চাকরির কথা। যে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমেরিকায় চলে এসেছিলাম। 

Continue reading “ল্যান্ড অফ ফ্রীডম, আমেরিকান ড্রিম?”

সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ

সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ এখন হলো, মানুষকে কীভাবে বোঝানো যাবে যে পড়াশোনা, চিন্তাভাবনা, বিশ্লেষণ করার, প্রশ্ন করার অসম্ভব বেশি দরকার হয়ে পড়েছে। এবং তার দুটো অংশ।

(১) কীভাবে সেই বোঝানোটা যাবে — কী ভাষায়, অর্থাৎ, কতটা সহজবোধ্য করে? এই কাজটা আমি বহুকাল ধরে একটু রপ্ত করেছি বাংলা আর ইংরিজি ভাষায়। অনেক রেসপন্স পেয়েছি, এবং পাচ্ছি।

আর 

(২) কোন কোন বিষয়ে কথা বললে মানুষ সাড়া দেবে, এবং কোন কোন বিষয়ে কথা বললে তারা আরো বেশি গুটিয়ে যাবে? অর্থাৎ, সোজাসুজি পলিটিক্সের কথা শুরু করলে বেশির ভাগ মানুষ বোধহয় আজকাল ভয় পেয়ে যাবে, বা চুপ করে যাবে। কিন্তু ক্রিকেট, পুজোর বাজার, বলিউড, বা এখন ধরুণ এই নিউ ইয়ার্স ডে পার্টি, ফান — এসব নিয়ে কথা বললে, ছবি পোস্ট করলে প্রচুর লাইক পাওয়া যাবে — সোশ্যাল মিডিয়াতে, এবং বাস্তব জীবনে।

আচ্ছা। গুড। এখন সেই লোকগুলোকে (লোক বলতে আমি পুরুষ ও মহিলা সবাইকেই বোঝাচ্ছি) যদি মাঝে মাঝে একটু রাজনীতি, অর্থনীতির কথা, পকেটের কথা, পলিউশন বা স্বাস্থ্য সংকটের কথা, বা ধরুণ ম্যাকডোনাল্ড, কোক, কে এফ সি জাতীয় বিষাক্ত খাবার ও পানীয়ের কথা, প্লাস্টিক ব্যবহারের কথা, বা ধরা যাক মেডিকেল, এডুকেশন, তেল বা গ্যাসের খরচ, গাড়িভাড়া, ট্রেনভাড়া, নানারকমের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ট্যাক্স — এসব নিয়ে একটু কথা বলা যায়? কতজন সাড়া দেবে, এবং কীভাবে দেবে?

শাসক শ্রেণী চায়, এসব বিষয় নিয়ে যেন বেশি কথাবার্তা লোকে না বলে, এবং সবাই যেন ওই পার্টি, ফান, বলিউড, ক্রিকেট, বা এখন হয়েছে পর্ণোগ্রাফি — এসব নিয়েই ডুবে থাকে।

এই হলো ইয়ং জেনারেশন এবং শহরের লোকেদের জন্যে দাওয়াই। দাওয়াই নয়, ড্রাগ। এল এস ডি, বা মেট জাতীয় ভয়ঙ্কর ড্রাগের থেকেও বেশি শক্তিশালী তাদের ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া, ঘুম পাড়িয়ে রাখার ক্ষমতা। ইল্যুশন, মায়া, মোহের মধ্যে জীবন কাটানোর স্বপ্ন। যে স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই।

আর গ্রামের লোকেদের জন্যে, বা ওল্ডার জেনারেশনের জন্যে অন্য ড্রাগ। ধর্মান্ধতা, নারীবিরোধিতা, মুসলমানবিরোধিতা (বা মুসলমানপ্রধান দেশে হিন্দু-বিরোধিতা), আমেরিকায় ও ভারতে ইমিগ্রেন্ট-বিরোধিতা, এইসব। নিম্নবর্ণের জাতি বা বর্ণ বিরোধিতা — ভারতে দলিত বা অচ্ছ্যুতদের ঘৃণা, এবং আমেরিকায় ব্ল্যাক ও নথিহীন গরিব ইমিগ্রেন্টদের ঘৃণা। একই ব্যাপার।

Continue reading “সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ”

পশ্চিমবঙ্গের একটি পত্রিকায় আমার লেখা।

আমেরিকায় যারা দীর্ঘদিন থাকেনি, তাঁরা দেশে বসে বুঝতে পারেন না এদেশের আসল জীবনটা ঠিক কেমন। তাঁদের কাছে আমেরিকা এখনো সোনার দেশ। যাকে এদেশের ভাষায় বলে, “দা স্ট্রিটস আর পেভ্ড ইন গোল্ড।” বহুকাল আগে থেকে চলে আসা কতগুলো শব্দ, কতগুলো বর্ণনা — যা আমাদের কাছে স্বপ্নের মত ছিল, তা এখন ঠিক কেমন, সেটা এখানে জীবন না কাটালে ঠিক বোঝানো যায়না। বিশেষ করে মার্কিন মুভি, মিডিয়া এবং তাদের দোসর আমাদের দেশের মিডিয়া, টিভি ও কাগজপত্রের কল্যাণে এদেশ সম্পর্কে এমন একটা মায়াজাল সৃষ্টি করা হয়েছে, যার অন্য দিকটা সম্পর্কে কেউ জানেনা। Link at https://aparjan.com/2019/01/10/january2019-pabaes/?fbclid=IwAR21sTVpxUEgOgrni6Y-JYwFHatCGWp9D_d91SvJ2XeKS21-wTEVPOzl3-o